Thursday, September 16, 2021
Homeছোট ব্যবসামেশিনের সাহায্যে 'চপ্পল' বা 'সিল্পার' বানিয়ে ব্যবসা

মেশিনের সাহায্যে ‘চপ্পল’ বা ‘সিল্পার’ বানিয়ে ব্যবসা

আজকের দিনে মেশিনের সাহায্যে ‘সিল্পার’ বা ‘চপ্পল’ বানানোর ব্যবসা খুবই লাভজনক হতে পারে। আপনি এই ব্যবসা ক্ষুদ্র শিল্পের আকারে শুরু করতে পারেন। আজকাল গোটা বিশ্বে এই ‘চপ্পল’ বা ‘সিল্পার’ এর ব্যবহার আছে, ভারতেও এর ব্যবসায়িক বাজার বেশ রমরমা। বিভিন্ন ডিজাইনারের ও রংয়ের চপ্পল বাজারে পাওয়া যায় যা আমরা ঘরের মধ্যে ব্যবহার করি বা সামনা সামনি কোথাও যাওয়া আসার জন্য, এছাড়াও কোথাও ট্রাভেল করার সময় এর ব্যবহার আজকাল একটি ট্রেন্ড। ভালো কোয়ালিটির শোল দিয়ে জুতো তৈরি করে যদি আপনি নিজের কোম্পানির নাম দিয়ে ভালোভাবে মার্কেটিং করতে পারেন, আপনি এই ব্যবসায় ভালো লাভের মুখ দেখতে পাবেন। বাজারে অনেক ছোটো বড়ো কোম্পানি এই ব্যবসা থেকে ব্যাপক টাকা উপার্জন করছে।

কাঁচামাল:

‘সিল্পার’ বা ‘চপ্পল’ তৈরির জন্য প্রধান প্রয়োজনীয় কাঁচামাল হল রাবার শিট, যা থেকে জুতোর শোল কাটিং করে বানানো হয়। এরপর প্রয়োজনীয় দ্রব্য হল সিল্পারের স্ট্রিপ। এছাড়াও জুতোকে রঙীন ও ডিজাইনিং করে তোলার জন্য রং এবং প্যাকিংয়ের প্রয়োজনীয় বক্স ও কার্টুন। 

প্রয়োজনীয় মেশিন :

‘সিল্পার’ বানানোর জন্য যে সব দরকারী মেশিনের প্রয়োজন তা হল-

(১) শোল কাটার মেশিন

(২) স্ট্রিপ লাগানোর মেশিন

(৩) ড্রিল মেশিন

(৪) গ্রাইন্ডার মেশিন

(৫) জুতোর সাইজের ডাই

(৬) রং করার জন্য বোর্ড

‘সিল্পার’ বা ‘চপ্পল’

পদ্ধতি:

প্রথমে বাজার থেকে রাবারের শীট কিনে আনতে হবে।  একসাথে অনেক শীট কিনলে হোলসেল দামে এটি বাজার থেকে পাওয়া যাবে। কলকাতার বড়বাজার ও পার্ক স্ট্রিট এলাকায় আপনি এই রাবার শীট ও স্ট্রিপ কিনতে পেয়ে যাবেন। এছাড়াও এর দাম ও কাছাকাছি সাপ্লাইকারীর সম্বন্ধে জানতে আপনি www.indiamart.com ওয়েবসাইটে গিয়ে অনুসন্ধান করতে পারেন।

প্রথমে যে আকারের বা সাইজের চপ্পল তৈরি করতে চান, তার মাপ অনুযায়ী রাবার শীট থেকে একটি অংশ লম্বালম্বিভাবে কেটে নিন। এরপর ওই সাইজের ডাইস দিয়ে মেশিনের সাহায্যে রাবার শীট থেকে চপ্পলের শোল কাটিং করতে হবে। উন্নত মানের মেশিনে জুতোর স্ট্রিপ লাগানোর জায়গায় ছিদ্র হয়ে যায়। এবার ওই ছিদ্র বরাবর ড্রিল মেশিনের সাহায্যে ছিদ্রগুলো সমান আকারের করে নিতে হবে। এরপর গ্রাইন্ডার মেশিনের সাহায্যে সিল্পারের সাইটগুলো মসৃণ করে নিতে হবে। এরপর সিল্পারে বিভিন্ন রংয়ের ডিজাইন প্রিন্ট করার জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের বোর্ড পাওয়া যায়, তা দিয়ে সিল্পারটি প্রিন্ট করে নিতে হবে।  এরপর স্ট্রিপ লাগানোর মেশিনের সাহায্যে সিল্পারের মধ্যে স্ট্রিপ গুলি লাগিয়ে নিতে হবে। এখন আপনার সিল্পার তৈরি, এরপর ট্যাগ লাগিয়ে প্যাকিং করে বাজারে বিক্রি করতে পারবেন।

মেশিনের দাম:

সব মেশিনের সম্পূর্ণ সেট একসাথে প্রায় ১লাখ ২০ হাজারের মতো আসবে।

সাধারণত শোল কাটার মেশিনের দাম ৭০,০০০-১,০০,০০০ টাকার মত। স্ট্রিপ লাগানোর মেশিনের দাম ৬,০০০-৮,০০০ টাকা। ড্রিল করার মেশিনের দাম ১২,০০০-১৫,০০০ টাকা।গ্রাইন্ডার মেশিনের দাম প্রায় ৮,০০০-১০,০০০ টাকা। প্রতি সাইজের ডাইসের দাম পড়বে প্রায় ১২০০-১৩০০ টাকা।

সিল্পার তৈরির রানিং করার জন্য কত টাকা দরকার:

কোনো ব্যবসা চালানোর জন্য দুই ধরনের ক্যাপিটাল মানে টাকার দরকার হয়। একটি ফিক্সড ক্যাপিটাল মানে যেমন আপনার মেশিনারি দ্রব্য কেনার খরচ। আর একটি হল রানিং ক্যাপিটাল এর মধ্যে আসে আপনার সঞ্চিত কাঁচামালের খরচ,উৎপাদিত মাল, লেবার পেমেন্ট ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচ। আপনি যদি ছোটো খাটো স্তরে ব্যবসাটি রানিং করাতে চান তবে আপনার প্রতি মাসে ১ লাখের মত দরকার হবে।  আর একটু বড়ো স্তরে করতে চাইলে মাসে ৪-৫ লাখ মতো দরকার হবে।

লাভ:

একটি সিল্পার তৈরি করতে কাঁচামাল ও সমস্ত খরচ মিলিয়ে প্রায় ৩০-৪০ টাকা খরচ হয়। আর বাজারে রিটেল প্রাইস প্রায় ৯০-১০০ টাকার মতো বিক্রি হয়। আপনি এটি হোলসেল প্রাইস হিসেবে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।দিনে আপনি ১০০ ডজন সিল্পার তৈরি করলে আপনার দৈনিক ১০০০ টাকা মুনাফা থাকবে।

অবশ্যই পড়ুন : নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে –

আপনার ব্যবসার জন্য  উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন,  লাইসেন্স ও মেশিন কেনার ঠিকানা

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular